চীনের তৈরি জাহাজের ওপর যুক্তরাষ্ট্রের কড়াকড়ির ফলে বৈশ্বিক জাহাজ নির্মাণ বাজারে বড় পরিবর্তন আসছে। পরিসংখ্যান বলছে, চীনের হাত থেকে জাহাজের ক্রয়াদেশ এখন দক্ষিণ কোরিয়ার কোম্পানিগুলোর কাছে চলে যাচ্ছে। এতে বৈশ্বিক জাহাজ নির্মাণ শিল্পে দ্বিতীয় স্থানে থাকা দক্ষিণ কোরিয়ার সঙ্গে শীর্ষ দেশ চীনের ব্যবধান কমে আসছে। খবর নিক্কেই এশিয়া।
যুক্তরাজ্যভিত্তিক ক্লার্কসন রিসার্চের তথ্যানুযায়ী, ২০২৫ সালে বিশ্বজুড়ে জাহাজ নির্মাণের ক্রয়াদেশ ২৭ শতাংশ কমে ৫ কোটি ৬৪ লাখ টনে দাঁড়িয়েছে। এ মন্দার মধ্যেও দক্ষিণ কোরিয়া বেশ ভালো করেছে। দেশটিতে জাহাজের ক্রয়াদেশ ৮ শতাংশ বেড়ে ১ কোটি ১৫ লাখ টনে পৌঁছেছে। এতে বিশ্ববাজারে দক্ষিণ কোরিয়ার হিস্যা ৭ শতাংশ বেড়ে ২০ দশমিক ৬ শতাংশে দাঁড়িয়েছে।
একই সময়ে চীনের ক্রয়াদেশ ৩৫ শতাংশ কমেছে। ফলে দেশটির বাজার হিস্যা ৮ শতাংশ কমে ৬২ দশমিক ৭ শতাংশে নেমেছে।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প গত এপ্রিলে চীনের তৈরি জাহাজে পণ্য পরিবহনের বিশেষ ফি বা মাশুল আরোপের ঘোষণা দেন। গত অক্টোবর থেকে এ নিয়ম কার্যকর হওয়ার কথা ছিল। তবে চীনের পাল্টা পদক্ষেপের মাঝে সিদ্ধান্তটি এক বছরের জন্য স্থগিত হয়। ওই ঘোষণার পর থেকেই বিশ্বজুড়ে শিপিং কোম্পানিগুলো চীনের বিকল্প খুঁজতে শুরু করে।
চীনের রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠান চায়না স্টেট শিপবিল্ডিং করপোরেশন (সিএসএসসি) জানিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রের কড়াকড়ির কারণে নতুন ক্রয়াদেশ পাওয়ার দৌড়ে পিছিয়ে পড়ছে তারা।
এ পরিস্থিতির সরাসরি সুফল পাচ্ছে দক্ষিণ কোরিয়ার সবচেয়ে বড় জাহাজ নির্মাণকারী প্রতিষ্ঠান এইচডি কোরিয়া শিপবিল্ডিং। কোম্পানিটি জানিয়েছে, চীনের ওপর ক্রেতাদের অনীহার কারণে বড় কনটেইনার জাহাজের বিপুল ক্রয়াদেশ পেয়েছে। গত বছর কোম্পানিটির নিট মুনাফা দ্বিগুণ বেড়ে প্রায় রেকর্ড ২১০ কোটি ডলারে পৌঁছেছে।
দক্ষিণ কোরিয়ার সরকারও এ খাতের প্রসারে একাধিক পদক্ষেপ নিয়েছে। বিশেষ করে কর্মী সংকট মোকাবেলায় ২০২৪ সালে ইন্দোনেশিয়ায় একটি প্রশিক্ষণ কেন্দ্র খোলা হয়েছে। এতে দক্ষিণ কোরিয়ার জাহাজ শিল্পে বর্তমানে বিদেশী কর্মীর সংখ্যা রেকর্ড ২২ হাজার ছাড়িয়েছে।